Ads
News
Loading...

‘জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সততা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করুন’


জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০১৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জানমালের হেফাজত করা আপনাদের পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে আপনারা সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করবেন। তিনি বলেন, বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে আনসার বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ বাহিনীর ৬৭০ জন সদস্য মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একাত্তরে তারা মুক্তিকামী জনগণের মধ্যে ৪০ হাজার অস্ত্র বিতরণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ বাহিনীর ২০ জন বীর সদস্য বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকারের শপথের দিনে গার্ড অব অনার দিয়েছিলেন। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করি। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফায় আনসার বাহিনীকে মিলিশিয়া বাহিনীর মর্যাদা দেয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। জাতির যেকোনো প্রয়োজনে আনসার বাহিনী সাহসকিতার সঙ্গে সাড়া দিয়েছে।
আনসার বাহিনীর কল্যানে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে আমি আপনাদেরকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেছি। ব্যাটালিয়ন আনসারদের চাকরি ১৫ বছর পূর্ণতার সাপেক্ষে স্থায়ী করেছি, যা পর্যায়ক্রমে ১২ ও ৯ এবং সর্বশেষ গত ৩৫তম জাতীয় সমাবেশে আমি ৬ বছরে স্থায়ীকরণের কথা ঘোষণা করি। কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ৫ লাখ ও গুরুতর আহত হলে এক লাখ টাকার আর্থিক অনুদান অনুমোদন দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরে ২ হাজার ৫৫৮ জন ব্যাটালিয়ন আনসার ও সাধারণ আনসার সদস্যকে ৮ কোটি ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৫ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। ব্যাটালিয়ন আনসারদের পারিবারিক রেশনের ব্যবস্থা চলমান আছে। ২০১৫ সালে ৬৭২ জন মহিলা আনসার সদস্যকে স্থায়ী পদে পদায়ন করা হয়েছে। মহিলা থানা প্রশিক্ষিকাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে। আপনাদের কাজের স্বীকৃতি ও বিশেষ সম্মান প্রদর্শনে আনসার বাহিনীতে আমাদের সরকারই পদক প্রবর্তন করেছে আমাদের সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার সামগ্রিক উন্নয়ন বান্ধব সরকার। দেশীয় উন্নয়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ চলছে। কর্ণফুলি নদীতে টানেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক উন্নয়ন ও ঢাকা-চট্রগ্রাম চার লেন সড়ক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়কেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে আজ মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৩২৬ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার কমেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। জাতীয় আয়ে প্রবৃদ্ধি এখন সাড়ে ৬ ভাগ। দারিদ্রের হার কমে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি।
তিনি বলেন, এই সাত বছরে প্রায় একশ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছি আমরা। বিনামূল্যে বই বিতরনের ব্যবস্থা করেছি। ১ জানুয়ারি ৩৩ কোটি ৩৭ লাখের বেশি বই বিতরন করেছি। প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাচ্ছে।
Share on Google Plus

About Unknown

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.

0 মন্তব্য(গুলি) :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন