Ads
News
Loading...

তরুণ-তরুণীর ভালোবাসা যখন ‘ভালো’র মাত্রা ছাড়িয়ে যায়

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির


ভালোবাসা, প্রেম, অনুরাগ, তিনটি শব্দ অর্থ এক। একটি বিশেষ বয়সে ছেলে মেয়ে পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সে আকর্ষণ দুনির্বার। সেটাই ভালোবাসা বা প্রেম অথবা অনুরাগ। এমনই দুর্নিবার সে আকর্ষণ পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাতে বাধা দিতে পারে না। বাধা যদি দেয়ও তাতে কোনো লাভ হয় না।  সাধারণতঃ  যৌবনেই তরুণ-তরুণী পরস্পরের প্রেমে পড়ে। সে ভালোবাসা প্রায়ই হয় অন্ধ। ভালোভাসার বহু  কিংবদন্তী সম উপাখ্যান আছে। ‘লায়লী মজনু’, ‘শিরি ফরহাদ’ তার মধ্যে প্রধান। ভালোবাসা অম্লান, অক্ষয়, অমর রাখার জন্যে উপাখ্যানে নায়ক নায়িকা কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, কি পরিমান নির্যাতন ও যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে এবং কোনো ভাবেই ভালোবাসাকে পরিত্যাগ করে না।  কেউ কেউ মৃত্যুকেও বেছে নেয়।  আমাদের বর্তমান বাস্তব পৃথিবীতেও ভালোবাসার অবস্থান  যুবক- যুবতীদের হৃদয়ে একই রকম। তারা মৃত্যুবরণ করবে হাসিমুখে, তবু ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখবে। কিন্তু দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক যে, এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কখনো কখনো ‘ভালো’র মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। বিপদগামী হয়।  ভালোবাসা কি ভাবে হয়ঃ নানাভাবে যুবক-যুবতীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হতে পারে। সব সময় পারস্পরিক সান্নিধ্যে থাকলে সাধারণত উভয়ের মনে ভালোবাসার জন্ম বা সৃষ্টি হয়। এ পারস্পরিক সান্নিধ্য কি? খালোতা, মামাতো, চাচাতো, ফুফাতো ইত্যাদি ধরণের ভাই বোন এক সঙ্গে থাকলে, ঘনিষ্ট ভাবে মেলা মেশা করলে তাদের মধ্যে ভালোবাসা জন্মায়। যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠ বা কো এডুকেশন আছে সে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠী যুবক-যুবতীদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হতে পারে।
 
একই পাড়ার  পাশাপাশি বাড়িতে যুবক- যুবতী থাকলে তাদের মধ্যে অচিরেই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। আবার এমন ও দেখা যায় যে, কর্মস্থলে যুবক-যুবতী পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং পরে তা নিবিড় ভালোবাসায় পরিণত হয়। মূলতঃ সব সময় দেখা হওয়া, কথার আদান প্রদান, দৃষ্টি বিনিময় ইত্যাদি হলো পারস্পরিক সান্নিধ্য এবং এভাবেই মন ও ভাবেরও বিনিময় হয়ে থাকে যুবক যুবতীর মধ্যে। কিন্তু ভালোবাসা কি সর্বদা সফল হয়? না তা হয় না। বিভিদ কারণে ভালোবাসা ব্যর্থ হয়ে যায়।
ভালোবাসার মন্দ দিকঃ ভালোবাসার মন্দের দিকে এগিয়ে গেলে তা ব্যর্থ হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে থাকে। ভালোবাসা কিভাবে মন্দের দিকে এগিয়ে যায়?
প্রথমতঃ  যুবক-যুবতীর ভালোবাসার আবেগ ও মানসিক এবং হৃদয়গত আবেদন প্রধান হলেও দৈহিক আবেদনের ভূমিকা কম নয়। বরং বহুক্ষেত্রে দৈহিক আবেদনই প্রধান হয়ে ওঠে।
এ কথা সত্যি যে, দৈহিক আবেদন না থাকলে যুবক-যুবতীর মধ্যে ভালোবাসার বীজ অংকুরিত হয় না এবং অংকুরের অস্তিত্ব না থাকলে চারাগাছ বা বিশাল বৃক্ষ ও জন্মায় না। অথচ বিশালতা ও ব্যাপকতার সঙ্গে ভালোবাসার গভীর সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে। হৃদয় বিশাল না হলে কারো মধ্যে সত্যিকার ভালোবাসা গড়ে উঠতে পারে না। কিন্তু  সে জন্যে, বিশালত্ব অর্জনের জন্যে ভালোবাস যদি শুধু শরীর নির্ভর হয়ে পড়ে তাহলে তা অচিরেই ধ্বংস হয়ে যায়।
দ্বিতীয়তঃ ভালোবাসার মধ্যে স্বার্থের সম্পর্ক এসে গেলে তা মন্দের দিকে এগিয়ে যায়। কারণ, ভালোবাসা নিঃস্বার্থ  বরং ভালোবাসা মানুষকে ত্যাগের দীক্ষা দেয়। স্ব-স্বার্থ ত্যাগ না করলে প্রকৃত ভালোবাসা গড়ে উঠে না।
তৃতীয়ঃ কেউ কেউ আছে, যারা নিছক সখের বসে সময় কাটানোর জন্য বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে প্রেম করে।  যুবক এবং যুবতী উভয়ের ক্ষেত্রে একথাটি প্রযোজ্য। কিন্তু এর অর্থ ভালোবাস নয়। অভিনয়। তারা পরস্পরকে ভালোবাসার অভিনয় করে মাত্র।
পরিণতিঃ ভালোবাসা মন্দের দিকে এগিয়ে গেলে তার পরিণতি কখনো ভালো হয় না। হতে পারে না। একথা অনেক বিজ্ঞজন বলে গেছেন। চোখ-কান খোলা রাখলে আমরা সকলেই ভালোবাসা মন্দের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিণতি দেখতে পারবো। কখনো কখনো পরিণতি হয় দু:খজনক এবং কখনো রীতি মতো ভয়াবহ। ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা যায় খারাপ পরিণতি তাকে ক্রমশ আরো খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। বিপথগামী হয়ে নিজেকে সান্তনা দেয়ার ছুতোঁয় সে বিভিন্ন মেয়েদের মধ্যে প্রকৃত ভালোবাসা কিংবা ভালোবাসার ভালো দিক খুঁজতে শুরু করে। এতে সে হয়ে যায় প্লেবয় টাইপের যা আমাদের সমাজে কোন অবস্থাতে কোন সময়ই গ্রহনযোগ্য নয়। আবার সে যোগ্যতা বা সার্মথ যাদের নেই তারা দেবদাস সাজতে শুরু করে মদ,গাঁজা,ফেনসিডিলে আসক্ত হয়ে তিলে তিলে নিজেকে এবং সংসারকে ধ্বংস করে দেয়। এর পরিণতিতে ছেলেটির হয় ঘৃণিত মৃত্যু আর সংসারটি ডুবে যায় যন্ত্রনাময় হতাশায় আর মেয়েদের ক্ষেত্রে?
উপরোক্ত কথাটি মেয়েদের ক্ষেত্রে ও যে প্রযোজ্য তাতে সন্দেহ নেই।  তবে, মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন ছেলেকে নিজের কাছে ধরে রাখার জন্য দেহকেই সর্বস্ত করে তোলে এবং নির্দ্বিধায় ছেলেদের কাছে দেহদান করতে থাকে। তারা তখন পরিণত হয় দেহবিলাসিনীতে। সোজা কথায় তাদের সঙ্গে তখন আর বীরাঙ্গনার কোন পার্থক্য থাকে না। বীরাঙ্গনা টাকা নেয় ,এরা দেহ ভোগকারী কে টাকা দেয়।
আর ভয়াবহ পরিণতি যেটা সেটা শুধু ভয়াবহই নয়,অত্যন্ত করুন ও বটে। কোনো কোনো মেয়ে খুব আবেগ প্রবণ হয়। আবেগ প্রবণতার জন্য তারা জীবনকে তুচ্ছ মনে করে এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

অভিভাবকদের আপত্তির কারণ:
ভালোবাসা মন্দের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ফলে যুবক যুবতীদের মধ্যে যে মনোভাব সৃষ্টি হয় এবং এর পরিণাম যা হয় তার জন্যেই কি অভিভাবকেরা ভালোবাসার ব্যাপারে আপত্তি করেন? এ প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয়,কথাটি বহুলাংশে সত্য। তবে সবাংশে সত্য নয়। অভিভাবকদের আপত্তির প্রধান কারণ সামাজিক বিধি-নিষেধ। আমাদের সমাজে বিয়ের আগে যুবক যুবতীর ভালোবাসাকে ভালো চোখে দেখা হয় না। তাই অভিভাবকরা ছেলে মেয়ের বিবাহ পূর্ববর্তী ভালোবাসার সর্ম্পক মেনে নিতে চান না। আজকাল কিছু উদার মনোভাবাপন্ন অভিভাবক থাকলেও মূলত বেশির ভাগ অভিভাবক সামাজিক অনুশাসন মেনে চলতে চেষ্টা করেন তবে একথাও ঠিক যে, ভালোবাসা মন্দের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিণতি দেখার আগে ও পরিণতি কি হতে পারে সে কথা চিন্তা করে, বহু অভিভাবক ছেলে মেয়েদের ভালোবাসার ব্যাপারে আপত্তি করেন। যা খুবই সঙ্গত। দেখা যায় অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পরে হয় তো ছেলে মেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারলো কিন্তু তাদের সে বিয়ের পরে সংসার সুখের হয় না,কিন্তু কেন?
এর কারণ কি?
এর প্রধান কারণ, প্রথমত: ব্যক্তিত্বের সংঘাত। বিয়ে করার পরে যুবক যুবতী উভয়েই নিজের ব্যক্তিত্বকে রক্ষা করতে চায়। কিন্তু সেটা সম্ভব হয় না দুজনের মধ্যে একজনকে ব্যক্তিত্ব বির্সজন দিতেই হয় অথবা ব্যক্তিত্বকে খাটো করে ফেলতে হয়। কমপ্রোমাইজ করে এ্যাডজাস্ট করতে হয়। যা করতে অনেকেই রাজী হয় না।
দ্বিতীয়ত: অবিশ্বাস,পারস্পরিক অবিশ্বাস সংসারে অশান্তির,আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ অবস্থায় সংসার সুখের হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
একটি উদাহরণ:
যেমন ধরুন,সুমন ও নীলা পরস্পরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। কিন্তু দুজনের মনেই সন্দেহ রয়েছে যে,বিয়ের আগে যখন ভালোবেসেছে তখন বিয়ের পরও তো অন্য কারো সঙ্গে ভালোবাসার সর্ম্পক গড়ে তুলতে পারে। তাই নীলা যখন সুমনের বান্ধবীদের সহ্য করতে পারে না। সুমন ও তেমনি নীলার বন্ধুদের সহ্য করতে পারে না। পারস্পরিক অবিশ্বাসের ফলে প্রায়ই তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায় । সংসার থেকে সুখ চলে যেতে থাকে এবং এক সময় তারা দুজনেই সম্পূর্ণ অসুখী মানুষের পরিণত হয়। ভালোবাসার বিয়ের একটা চরম খারাপ পরিণামে তারা জড়িয়ে যায়। তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তালাক প্রাপ্ত সীল মোহর কপালে এঁটে নীলা চলে আসে বাবার বাড়ি। আর স্ত্রী প্রত্যাখ্যাত র্দুনাম নিয়ে উচ্ছুঙ্খল জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পরে সুমন। তাই আধুনিক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রেমের জ্বরে ভুগুন,আপত্তি নেই কিন্তু মাত্রা ছাড়িয়ে যাবেন না...#


 
                                                                                                                     গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
                                                       নির্বাহী পরিচালক - আনন্দ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, বুড়িচং, কুমিল্লা। মোবাইলঃ ০১৭১৮-২২৮৪৪৬




Share on Google Plus

About Unknown

This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.

0 মন্তব্য(গুলি) :

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন